আমাদের দেশে বেকারত্বের মূল কারণটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

একটু ভেবে দেখা যেতে পারে, তাই না?
আসেন, একটু গল্প করি।
পৃথিবীর যেসব দেশে বেকারের সংখ্যা কম, সেখানের তরুণরা কিভাবে ভাবে জানেন?
তারা ভাবে,
“চলো একটা দোকান দিই।”
“দুই বন্ধু মিলে একটা কফি শপ দিই।”
“চাচা-ভাতিজা মিলে মুদি দোকান দিই।”
“বাবা-ছেলে মিলে একটা হোটেল দিই।”
তাদের কাছে কাজ ছোট না, স্বপ্নটাই বড়।
ছোট থেকেই তারা শেখে,নিজের কিছু দাঁড় করানো লজ্জার না।মানুষ কি বলবে,এটা কোনো থিওরি না।
তারা শুধু স্বপ্ন দেখে না,স্বপ্নকে বাস্তব বানানোর জন্য কাজও শুরু করে।
“ছোট্ট ব্যবসা, বড় স্বপ্ন।”
আর আমাদের দেশে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বললো,“ভাই, একটা হোটেল দিতে চাই।”
এলাকাবাসী বললো,“তুই এত পড়াশোনা করে হোটেল দিবি?”
ব্যস!ওই ছেলেটাকে “Good for nothing” লিস্টে ফেলে দেওয়া হলো।
এই সমাজে যেন পড়ালেখার একটাই উদ্দেশ্য,BCS ক্যাডার হও,ডাক্তার হও,ইঞ্জিনিয়ার হও,নাহলে সরকারি চাকরি করো।
একটা পিয়নের পদেও মাস্টার্স পাশ করা গ্রাজুয়েট এপ্লাই করে কেন জানেন?
কারণ,মেয়ের বাবা চাকরি ছাড়া ছেলে দেখতে চান না।
এই দেশে চাকরি বাদে আর কোনো প্রফেশনকে সম্মান করা হয় না।আর যদি ব্যবসা করো,তাহলে প্রথম দিন থেকেই “অনেক টাকার ব্যবসায়ী” হতে হবে!
কিন্তু একটা বড় ব্যবসায়ী যে একদিনে তৈরি হয় না,এই জ্ঞান আমাদের সমাজের অনেকেরই নেই।
তারা ২৫ বছরের পরিশ্রমী ছেলেটাকে দেখে না,তারা শুধু ৪৫ বছরের ধনী লোকটার ব্যাংক ব্যালেন্স দেখে।
রিডিকিউলাস সমাজ!
এই কারণেই আমাদের দেশে বেকারত্ব শুধু একটা সংখ্যা না,এটা একটা মনস্তত্ত্ব।
আমরা “চাকরি” নামের সোনার হরিণের পিছনে দৌড়াই,কিন্তু নিজের দোকান,নিজের হোটেল,
নিজের আয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখি না।
পাশের দেশের তরুণেরা ২০ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করে,আর আমরা ৩০ বছর বয়সেও বাপের টাকায় আইফোন কিনে স্টোরি দিই,আর মেয়েকে পটানো নিয়ে ব্যস্ত থাকি।
আর অনেক মেয়েও ওই টাইপের ছেলেকেই “ড্রিম পার্টনার” ভাবে।অথচ নিজের যোগ্যতায় একটা বাটন ফোন চালানো ছেলেটা,ওদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে আছে,এটা কেউ ভাবে না।
বাইরের দেশের তরুণেরা স্টার্টআপ তৈরি করে,
আর আমাদের ছেলেটা?
বাবার টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কিনে,দিনশেষে সিভি প্রিন্ট করার টাকাটাও বাবার কাছ থেকেই নেয়।
আপু-ভাই,যারা বাবা-মা হয়েছি, তাদেরকে বলছি,সময় এসেছে মানসিকতা বদলানোর।
একটা চায়ের দোকান মানে লজ্জা না।চায়ের কাপেও স্বপ্ন তৈরি হয়।একটা মুদি দোকান মানে ব্যর্থতা না।
ওটাই হতে পারে আগামী দিনের বড় কোম্পানি।
চাকরি না পেলে কষ্ট পাবেন, ঠিক আছে।কিন্তু নিজে কিছু শুরু করতে লজ্জা পাওয়াটাই আপনার মূল সমস্যা।
আপনার বাচ্চাকে শুধু “চাকরি করতেই হবে” এই মানসিকতা দিয়ে বড় করবেন না।
ওটাই আমাদের বেকারত্বের সবচেয়ে ভয়ংকর চেহারা।
গরমে কাজ করতে কষ্ট,শীতে লেপ থেকে বের হতে কষ্ট,
বর্ষায় ঘুম পায়,আর চাকরি না পেলে বুকে দহন লাগে।
আসলে সমস্যা আবহাওয়ায় না,সমস্যা আমাদের মাথার ভিতরে।
“মানুষ কি বলবে?”
এই একটা চিন্তাই আমাদের সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে দিয়েছে।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থা তারছেঁড়া।হেডে ডিস্টার্ব।
আর সেই কারণেই এত যোগ্য মানুষ থেকেও আমরা পিছিয়ে আছি।
মানসিকতা বদলান।কাজকে সম্মান করতে শিখুন।
নিজের কিছু শুরু করতে লজ্জা পাবেন না।
কারণ,
একদিনের ছোট দোকানই,আগামী দিনের বড় ব্র্যান্ড হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *