উদ্যোক্তাদের ঘন্টা ধরে কাজ হয়না

 

আমি যখন ক্যাম্পাসে ছিলাম,তখন আমার কাজ ছিলো মুলত সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ এর মধ্যে।সকালে ৮ টা থেকে প্রথম শিফট বা প্রভাতি চালু হতো, যেটা শেষ হতো ১:১৫ তে।

এই সময়ের মধ্যে, যখন আমার ক্লাস থাকতো তখনই আমাকে যেয়ে ক্লাস নিতে হতো।এমন রুটিনেই সবাই চলতো।

আবার ডে শিফট চালু হতো ১:১৫ থেকেই, যার শেষ ছিলো ৬:৩০ টাই।একই নিয়মে ২য় শিফটেও ক্লাস নিতে হতো।যেভাবেই ক্লাস নিই না কেন- মোটামুটি সন্ধ্যার পরে কলেজ ক্যাম্পাসে আর থাকার কোন দরকার পড়তোনা (স্পেশাল কারন ছাড়া)।

তখন আমার মনে হতো- সকাল থেকে এই সূর্য ডুবে যাওয়া অবধি কাউকে এভাবে রাখা মানে আসলেই প্রতিভার অপচয়।এরপরে এক সময়ে আমার অফিস হলো- সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১:১৫ পর্যন্ত।

যাহোক, আমার কাছে সেটাও ভালো লাগেনাই।আর এই কারনেই আমি এখন কতঘন্টা কাজ করি সেটার আর হিসাব নেই।

সকালে উঠে ৩০ মিনিট মিনিমাম বই পড়ি,এরপরে আমাকে কন্টেন্ট দিতে হয় নিম্নোক্ত জায়গাগুলিতে-

✔️ ডি পি বি
✔️ অর্জন
✔️ ICT CARE
✔️ Photography
✔️ নিজের প্রোফাইল
✔️ নিজের নামে পেজ

অন্তত এই জায়গাগুলিতে লিখি আমি, একটা করে কন্টেন্ট কিন্তু নয়।

এরপরে অফিসের সবার কাজের লিস্ট টা আপডেট করে দিই,যেন সবাই সকালে অফিসে এসেই জানতে পারে কার কি কাজ।

মোটামুটি ১০-১০:৩০ টাই আমার শুরু হয়ে যায় অফিসের কাজগুলি।এই তালিকায় কি কি থাকে দেখা যাক-

✔️ পেজ চেক আপ
✔️ নতুন কনসাল্টেন্সি (অনলাইন)
✔️ অফলাইন কনসাল্টেন্সি
✔️ ডিজাইন কনসেপ্ট রেডি
✔️ ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট
✔️ ব্যাংকে বিল পেমেন্ট
✔️ ক্লায়েন্ট মিটিং
✔️ এড ক্যাম্পেইন সেট
✔️ ভাইয়া আমার অমুক সমস্যা, অমুক হয়েছে এগুলির ফ্রী ট্রিটমেন্ট,তাও সবাই বলে আমি নাকি রুড🙆
✔️ লাঞ্চের জন্য আবার ইদানিং রান্না করতে হয়, ডিনারেও তাই।
✔️ যারা মাসিক কাজ করেন,তাদের পেজগুলি এনালাইসিস করি

মোটামুটি সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত একেবারেই দম ফেলার সময় থাকেনা।এই ফাঁকে আমি পত্রিকা পড়ি, আইটি নিয়ে লেখাপড়া করি সেগুলার নোট করি,আবার আপনাদের জন্য বোধগম্য ভাষাতে লেখার চেষ্টা করি।

সন্ধ্যায় যখন অফিস ছুটি হয়ে যায়, তখন আমি প্ল্যানিং করি পরের দিনের, এরপরে আবার অফিস-কাস্টোমার এসব নিয়ে লেখাপড়া করি।

ম্যাক্সিমাম দিনেই আমার লক্ষ্য থাকে কাজকে পেন্ডিং না করা, সব সময় দিনের ডাটাবেজ দিনে রেডি করা,কারন আমি যদি শুধু সারাদিনে কোন কোন পেজে বিজ্ঞাপন গেলো- এটা নোট না করি,তাহলে পরের শুক্রবার না আসা পর্যন্ত সেটা আর ডাটাবেজে উঠবেনা,আলহামদুলিল্লাহ এতটা চাপ যায়।

গতকাল রাতে যেমন ২:২৭ পর্যন্ত জেগে আমি পেন্ডিং কাজগুলি ক্লিয়ার করেছি।এগুলি কেন বলছি জানেন?

ঢাকার অফিস টা আমি মাত্রই শুরু করেছি,আগামী একটা বছর আমার লক্ষ্যমাত্রার কাছে পৌছাতে গেলে আমাকেই সবার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হবে,এটার কোন বিকল্প নেই।

Alif Rahman আমার বন্ধু, ও আমার জন্য অনুপ্রেরণা, ও নিজেও খুব পরিশ্রমী ছেলে আর ওর একটা কথা আছে- বন্ধু, অফিসে যারা আমাদের সহযোগী, তারা আসবে ও যাবে এবং তারা মাস শেষে বেতন নিবে।কিন্তু যার অফিস, যার ব্যাবসা তার কোন ছুটি নাই।

আসলেই এইগুলি আমরা মেনে চলি,দেখেন ২৮ অক্টোবর ২০২০ সালে এই গ্রুপটা ওপেন করার পর থেকে এমন একটা দিন যায়নি যেদিন আমি ছুটি কাটিয়েছি,একটা কন্টেন্ট জেনারেট করিনি, কিন্তু এই গ্রুপের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সকলেই সেটা করেছেন।

দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা যেটা করেন আমি সেটাতেই অনেক কৃতজ্ঞ।কারন,গ্রুপ তাদের কোন পারিশ্রমিক দেয়না,মজা ব্যাপার হলো- আমাদের অফিস বা আমাদের গ্রুপ,কথাটা মুখে বলা আর অন্তরে ধারন করা এক হয়না কখনোই।

সবার ছুটি হয়, কিন্তু উদ্যোক্তাদের ছুটি হয়না, এটাই সত্য।

Newsletter Updates

Enter your email address below and subscribe to our newsletter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *