বর্তমান বাংলাদেশী যুগ (সারাবিশ্বে এই ট্রেন্ড নাই তাই বর্তমান যুগ বলছিনা) হলো- ট্রেন্ডের যুগ বা ভাইরাল হওয়ার যুগ।এই সময়ে বাংলাদেশ মানেই হলো- আমি জানি আর না জানি,আমি কিছু বলবোই আর ভাইরাল হবার ট্রাই করবো এবং চিলে কান নেবার স্টাইলে চলবো।
কোনকিছু হলেই বয়কট,এভোয়েড নামক ট্রেন্ড চলমান।এই স্ট্যাটাস দেখেও অনেকে আবার আমায় গালি দিবে নইলে আমাকে বয়কট করতে ব্যাস্ত হবে।এক শ্রেণী আবার আরো বেশি উগ্র হয়ে যাবে।
কিছু হইলেই বয়কট করে বা আগ্রাসী হয়ে যুদ্ধ জয় করা যায়না।যেকোন যুদ্ধে জয় করতে হলে সবার আগে বুদ্ধির ব্যবহার করতে হয়।এরপরে কৌশল সাজাতে হয়।আর এই কৌশল সাজাতে হলে আপনার লাগবে জ্ঞান,শিক্ষা ও স্কিল।
এইবার আসেন এই জ্ঞান,শিক্ষা ও স্কিল নিয়ে একটু আমরা আলোচনা করি-
আজ সকালেই নিউজ পেলাম,ইসরায়েলের অনুরোধে মেটা ৯০০০০+ পোস্ট ডিলিট করেছে যা মুলত ছিলো ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়।
এখন ভাবেন,আপনি কি মেটাকে বয়কট করবেন?নাকি এই মেটাকে আরও ভালোভাবে প্রপার ইউজ করবেন?যদি এই বয়কট করেন,তাহলে প্রচার কোথায় করবেন?
আচ্ছা ধরেন আপনি মেটাকে এভোয়েড করলেন।তো কয়টা টেক জায়ান্ট কে এভোয়েড করবেন?
আমরা পড়ে আছি,কোকাকোলা,বাটা আর পিজ্জার পিছনে।অথচ ইসরায়েল চুপচাপ অনেক আগে থেকেই সারাবিশ্বের সকল টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর সাথে যোগসুত্র স্থাপন করে নিজেদেরকে শক্তিশালী করেছে আর অন্যদিকে আমরা পড়ে আছি,কে কাকে কিভাবে পঁচানো যায়,কার বাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেয়া যায় সেসব নিয়ে।
ইসরায়েলে শুরু হওয়া গ্লোবাল ব্র্যান্ডগুলো দেখে নিন:
১. Elementor- ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইনের জন্য ডিজাইনাররা এটাকে এভোয়েড করতে পারবেনা। (প্রতিষ্ঠা: ২০১৬)
২. Wix- ২০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ এখন এই ওয়েবসাইট বিল্ডার ইউজ করেন। (প্রতিষ্ঠা: ২০০৬)
৩. Mobileye- গাড়ির চোখ! ইন্টেল কিনেছে $১৫.৩ বিলিয়ন ডলার দিয়ে। (প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৯)
৪. ICQ- প্রথম ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ! (প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৬)
৫. Waze- ট্রাফিক জেনারেট করার জন্য অনেক বেশি পাওয়ারফুল ! গুগল কিনেছে $১.১ বিলিয়ন ডলার দিয়ে। (প্রতিষ্ঠা: ২০০৬)
৬. Check Point – বিশ্বসেরা সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানিগুলোর একটি। (প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৩)
৭. Playtika- মোবাইল গেমিং এর পিছনের জাদুকর! (প্রতিষ্ঠা: ২০১০)
৮. IronSource- অ্যাপ ডিস্ট্রিবিউশন এক্সপার্ট, এখন Unity-র অংশ। (প্রতিষ্ঠা: ২০১০)
৯. Similarweb- ওয়েব অ্যানালিটিক্সের গুরু। (প্রতিষ্ঠা: ২০০৭)
আর যেসব টেক জায়ান্ট ইসরায়েলে তাদের R&D চালায়:
Google – তেল আবিব + হাইফা।
Apple – Anobit কিনে নিয়েছে।
Microsoft – ৯০ দশক থেকেই এখানে।
Intel – বিশাল গবেষণা সেন্টার
NVIDIA – Mellanox কিনে নিয়ে এখানে শক্ত ঘাঁটি।
কিছুদিন ধরে দেখলাম অনেকেই Fiver থেকে সরে যাচ্ছেন।আরেহ ভাই সরে যেয়ে যদি বলেন,রিজিক আল্লাহর হাতে সেটা বোকামি বরং ঐখান থেকে বেশি আর্ন করে বেশি ডোনেট করেন ভালো কাজে।তাহলেই তো হয়ে গেলো।
অনেকেই বলছেন,আমেরিকার স্কলারশিপ বর্জন করা উচিত কিন্তু আমি এটার পক্ষ্যে না।আমার মতে স্কলারশীপ এখন আগের চেয়েও বেশি ট্রাই করা উচিত।
কারন,ঐ যে বলেছি আগেই- দিনশেষে আপনার লাগবে এই জ্ঞান,ক্ষমতা আর টেকনোলজির স্কিল।এগুলির সঠিক জ্ঞান নিতে গেলে অবশ্যই আমাদেরকে ঐ দেশগুলিতে যেতে হবে।
কারণ, এখন পৃথিবীর জ্ঞানের কেন্দ্র কোথায়?
অথচ এটা ছিলো মুসলিমদের হাতে।তারা জ্ঞানের চর্চা না করে আজীবন ঐ নিজের মত ফতেয়া দেয়াতে ব্যাস্ত।কতজন মুসলিম স্কলার টেকনিক্যালি সাউন্ড দেখেন তো?
কতজন কোরআনের জ্ঞানের সাথে টেকনিক্যাল জ্ঞানটা ইউজ করেন প্রপারলি?
উত্তর পাবেন না জানি।আর এই উত্তর সঠিক নেই বলেই আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি আর ভাংচুরসহ অন্যান্য কাজে লিপ্ত।
যখন পৃথিবীর জ্ঞানের কেন্দ্র ছিলো বাগদাদ, তখন সারা পৃথিবী থেকে সবাই ওখানে ছুটে আসতো। পৃথিবীর সবকিছুর বর্জন চলে, জ্ঞানের বর্জন চলে না। বয়কট চলে না।কোন এভোয়েডের রাজনীতি চলেনা।
তুরষ্ক কেন এখন ড্রোন নিয়ে এত উন্নত বলেন তো?কিভাবে ওরা এত উন্নতি করলো?
জানবেন না,ইনফ্যাক্ট অনেকেই বলবেন ড্রোন সেক্টরে উন্নতি করে কি হবে?কেউ বলবেন ড্রোন আসলে কি কাজে লাগবে?
আমাদের নলেজ এতটাই নিচে নেমেছে যে এগুলিও ব্যাখা করতে হয়।
তুরষ্কের ব্যাপার টা ক্লিয়ার করি-
তুরষ্কের একটা জেনারেশন আমেরিকা ফেরত।তারা এই টেকনলজি আমেরিকা থেকেই শিখে এসেছে।আর সেটা নিজের দেশের কাজে লাগাচ্ছে।অন্যদিকে আমরা তো দেশে কোন মেধাবীর মুল্যায়নই করিনা।
আমরা থাকি,কে কোন বাজার-হাট দখল করা যায় সেটা নিয়ে।আরেহ ভাই,সবকিছু যদি সিস্টেমেটিক ওয়েতে চলে তাহলে তো সবাই সুবিধা ভোগ করতে পারে কিন্তু না,আমরা মানে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলি চাই তারাই শুধু ভালো থাকবে আর সাধারন জনগণ তাদের নিকট জিম্মি থাকবে।
ইরানের সাথে আমেরিকার এতো গন্ডোগোল বাঁধে নিয়মিত। অথচ ইরানিরা কি আমেরিকার স্কলারশিপ বর্জন করে? বরং ওরা আরো ভালো করে শিখে দেশে ফেরত আসে।
নবিজী,ওনার সময়ে পৌত্তলিক বন্দিদের মুক্তি দিতেন কোন ভাবে বলেন তো?
হ্যাঁ,সঠিক শুনেছেন। মুসলিম বাচ্চাদের পড়তে আর লিখতে শেখালে ছেড়ে দেওয়া হতো।
এই উপমহাদেশে আমাদের চেয়ে পাকিস্তানের স্কিল বেশি আর শক্তিও বেশি।
কারণ পাকিস্তানের কাছে এটম বোমা আছে।
এই বোমা বানাইছে একজন আব্দুল কাদির খান। জার্মান স্কলারশিপে পড়েছেন।
যদি এই লোক বলতো জার্মানি তো ইসরায়েল পক্ষে, আমি পড়তে যাবো না।
তাহলে কি আজ পাকিস্থান এইভাবে সমৃদ্ধ হতো?
এক আব্দুল কাদির খান তাঁর জ্ঞান আর পরিশ্রম দিয়ে পাকিস্তানের জন্য যা করে গেছেন,পাকিস্তানের স্কলারশিপ বর্জন করা ১০ লাখ লোক সারাদিন চিৎকার করেও কি সেটা করতে পারতো?
এইসব পড়ে আপনার যদি মনেহয় যে আপনি ঠিক করছেন। তাহলে এভোয়েড আর বয়কটের খেলা করুন।আর এই ফাঁকে আমাদের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কোম্পানি মোজো,তাদের আজাইরা প্রোডাক্টের দাম বাড়াতে থাকুক।
আরেহ ভাই,সফট ডিংক্স সবই ক্ষতিকারক। তাহলে বাদ দিই সবটাইকেই।কোকাকোলার ফ্যাক্টরি না নষ্ট করে কেনা বন্ধ করে দেন।
এইসব বয়কটের মিনিং না জেনে কাজ করা বুদ্ধি নিয়ে তো আপনি নিজের উন্মতিই করতে পারবেন না।সেখানে দেশের সবার উন্নতি কিভাবে হবে?
শোনেন ভাই-বোনেরা,একটা কথা বলি-
দেশ নিয়ে তর্কে জড়ানোর আগে ভাববেন,তর্কে আর নানা রকম স্ট্যাটাস এই ফেসবুকেই মানায়।কিন্তু যেকোন জায়গায় জিততে গেলে আপনার লাগবে- স্কিল,নলেজ আর কৌশল।
কেবলমাত্র,মুর্খতায় জেতার জন্য জ্ঞান লাগেনা।আর এই জন্যই তো-পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইবাদত করতেও জ্ঞান লাগে।জ্ঞানের দ্বারাই হয় ইবাদত।