যারা মনে করে যে, বুদ্ধিমত্তা, মেধা, দক্ষতা এসব মানুষ জন্মগতভাবে অর্জন করে, কেউ কোন কাজে খুব দক্ষ কারণ “he/she was born that way”, তারা ফিক্সড মাইন্ডসেটের অধিকারী।
আর যারা মনে করে যে, বুদ্ধিমত্তা, মেধা এগুলো তরল পদার্থের মত পরিবর্তনশীল, চেষ্টা দ্বারা এগুলোর উন্নতি করা সম্ভব, তাদের মাইন্ডসেট কে বলা যায় গ্রোথ মাইন্ডসেট।
আর মানুষ তার জীবনের কঠিন পরিস্থিতি, জটিলতা, বাঁধা এসব কিভাবে সামলাবে তা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই মাইন্ডসেটের উপর।
গ্রোথ মাইন্ডসেট আমাদের সফলতার চেয়ে কাজের প্রক্রিয়া, পরিশ্রম বা চেষ্টাকে অধিক গুরুত্ব দিতে উৎসাহ দেয়। কোন একটা কাজে মন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করার পরও যদি আমরা বিফল হই, তাহলে কি আমাদের সব পরিশ্রমও ব্যর্থ হয়ে যাবে?
নাহ, কখনোই না। কোন কাজে অংশগ্রহণ করলে, সেটা করার চেষ্টা করলেই কিন্ত অনেক কিছু শেখা হয়, জানা হয়। আর সে অভিজ্ঞতার মূল্য সফলতার চেয়ে কম নয়।
মাত্র সাড়ে তিন-চার বছর বয়স থেকেই কিন্ত বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি মাইন্ডসেট গঠন হওয়া শুরু করে। আর এর পিছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আচরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তারা যদি শিশুর কাজের সফলতার, বুদ্ধিমত্তার উপর জোর না দিয়ে শিশুর চেষ্টা, পরিশ্রমের প্রশংসা করে, তাহলে তার মধ্যে গ্রোথ মাইন্ডসেট গড়ে উঠবে। তবে কতটুকু কাজের জন্য কি ধরণের প্রশংসা করা হচ্ছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার।
কারণ, যদি শিশুর সামান্য চেষ্টাতেই সে অনেক পরিশ্রম করেছে এ ধরণের কিছু বলা হয়, তাহলে শিশু খুশি হবার পরিবর্তে উলটো তার মনে হতে পারে যে, এরচেয়ে বেশি ভালো করা তার পক্ষে সম্ভব না কিংবা প্রশংসাটা আসলে তার প্রতি সান্ত্বনা পুরষ্কার। ঠিকমত না বুঝেই গ্রোথ মাইন্ডসেটের এমন ঢালাও ব্যবহারকে Carol Dweck বলেছেন “False Growth Mindset”।
তবে ছোটবেলায় যদি কেউ অন্যের ফিক্সড মাইন্ডসেট বা ফলস গ্রোথ মাইন্ডসেট দ্বারা প্রভাবিত হয়েও থাকে, তাতেও চিন্তার কোন কারণ নেই, পরবর্তী জীবনেও মাইন্ডসেটের পরিবর্তন করা সম্ভব। কারণ আমাদের ব্রেইন আসলে সারাজীবনই নতুন নিউরাল কানেকশন তৈরি করতে পারে যাকে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা ব্রেন প্লাস্টিসিটি বলা হয়।
আর এ কানেকশন কিন্ত আমাদের চিন্তাভাবনা বা মানসিক অভিজ্ঞতার ফলেই তৈরি হয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, পরিকল্পনা, কৌশল এসবে পরিবর্তন আনলে তা আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনের মাঝেও নতুন সংযোগ তৈরি করবে, যা আমাদের কাজকর্মে প্রভাব ফেলবে।