SAMSUNG নিয়ে এটা পড়লে আপনার ধারনা বদলে যেতে বাধ্য।

আপনি যখন “Samsung” নামটা শুনেন, তখন প্রথমেই হয়তো মোবাইল ফোন, টিভি বা ফ্রিজের কথা মনে আসে।
কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় Samsung শুধু একটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি নয়।
এটি এমন একটি বিজনেস গ্রুপ, যার প্রভাব একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বহু ধাপে দেখা যায়।
ভাবুন তো,
একটি শিশু জন্ম নিল Samsung Medical Center-এ।
পরিবারটি থাকতে পারে Samsung-এর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তৈরি Raemian অ্যাপার্টমেন্টে।
বাড়ির টিভি Samsung-এর, ফ্রিজ Samsung-এর, ওয়াশিং মেশিন Samsung-এর, এয়ার কন্ডিশনার Samsung-এর।
হাতে Samsung-এর স্মার্টফোন।
ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবায় Samsung-এর বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সেবা ব্যবহার করছে।
ছুটিতে গিয়ে উঠছে Samsung-সংশ্লিষ্ট Hotel Shilla-তে।
কাজ করছে Samsung Group-এর কোনো প্রতিষ্ঠানে।
অর্থাৎ, একজন কোরিয়ান নাগরিকের জীবনের অসংখ্য পর্যায়ে Samsung-এর উপস্থিতি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
Samsung আসলে কী কী ব্যবসা করে?
অনেকেই জানেন শুধু Samsung Electronics-এর কথা।
কিন্তু Samsung Group-এর রয়েছে:
• Electronics ও Semiconductor
• Construction & Engineering
• Shipbuilding
• Biologics ও Pharmaceuticals
• Hospital ও Healthcare
• Insurance ও Financial Services
• Investment ও Asset Management
• Hotels & Resorts
• Fashion
• Heavy Industries
• Research & Development
এ কারণেই Samsung-কে শুধু একটি কোম্পানি নয়, একটি Conglomerate বা কোরিয়ান ভাষায় Chaebol বলা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ায় Samsung-এর প্রভাব কতটা?
Samsung Group দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বিশ্বের অসংখ্য বড় ব্র্যান্ডের জন্যও Samsung চিপ, ডিসপ্লে ও বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরি করে।
অর্থাৎ, আপনি হয়তো Samsung-এর ফোন ব্যবহার না করলেও, আপনার ব্যবহৃত অন্য কোনো ডিভাইসের ভেতরে Samsung-এর প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা যথেষ্ট।
তাহলে যে কথা শোনা যায়,”জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত Samsung”?
এটি আক্ষরিক অর্থে সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়।
কিন্তু এটি একটি জনপ্রিয় উপমা, যা বোঝায় Samsung-এর ব্যবসা ও প্রভাব দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজে কতটা বিস্তৃত।
বাস্তবে Samsung-এর হাসপাতাল, আবাসন, হোটেল, বীমা, প্রযুক্তি, নির্মাণ ও আরও বহু খাতে উপস্থিতি এই ধারণার জন্ম দিয়েছে।
একটি শিক্ষা:
বড় ব্র্যান্ড শুধু একটি প্রোডাক্ট বিক্রি করে না।তারা ধীরে ধীরে মানুষের জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিতে দিতে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করে।
আর যখন একটি ব্র্যান্ড মানুষের জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারে, তখন সেটি শুধু একটি কোম্পানি থাকে না,একটি প্রতিষ্ঠান, একটি শক্তি এবং একটি জাতীয় প্রভাবশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *