অফিসে ঢুকেই শায়ান একটা কফির জন্য পানির কেটলিতে পানি দিচ্ছিলো,এমন সময়েই অদ্রির আগমণ।
অদ্রি- আমি কফি বানিয়ে দিই?
শায়ান- শুভ সকাল
, আরেহ নাহ আমিই বানিয়ে নিচ্ছি।
অদ্রি- কেন? আমি কি কফি বানাতে পারিনা?
শায়ান- পারেন বটে,একটু বেশিই ভালো পারেন।
অদ্রি- সে তো বুঝলাম,বানাতে চাইলেই মানা করে দিলেন।
শায়ান- সব আপনি আপনার মতই বোঝেন,আমার দিক টা আমিই বুঝি নাহয়।
শায়ান- নাহ,এখন না।মন দিয়ে কাজ করেন।
অদ্রি- হ্যাঁ, এইটাই পারেন বলতে।এখন মন তো খারাপ করেই নিলেন।
শায়ান- কাজ শেষে বলবো। এখন এদিকে আসার কারন কি?
অদ্রি- আমি ক্লায়েন্টদের একটা সমস্যা নিয়ে চিন্তিত।
অদ্রি- ফেসবুকের তো পোস্ট সিডিউল করার ব্যাপার আছে।এই পোস্ট সিডিউল করলে কি রিচ কমে যায়?
শায়ান- নাহ।কেন এমন মনে হলো?
অদ্রি- ক্লায়েন্টরা বলেন,অন্য পোস্টের তুলনায় এই সিডিউল করা পোস্টে রিচ কম থাকে।
শায়ান- পোস্ট সিডিউল টাইমে তারা কি একটিভ থাকে?
অদ্রি- একটিভ ঐ সময়ে থাকতে পারবেনা বলেই তো সিডিউল করে রাখেন ওনারা কিংবা আমরা।
শায়ান- ভুল টা তো এখানেই।আগে বুঝতে হবে যে, সিডিউল কেন দিয়েছে ফেসবুক থেকে আর এটাকে কিভাবে ইউজ করতে হয়।
অদ্রি- আপনি বলতে চাইছেন,আমরা এটা জানিনা বা ক্লায়েন্টরা জানেন না?
শায়ান- দেখেন,আপনি যখন জানতে পারবেন যে সকাল ৯ টার সময় আপনি ব্যাস্ত থাকবেন,আপনি কি ঐ সময়ে কাউকে সিডিউল দিবেন?
অদ্রি- নাহ।কিন্তু সেটা আর এটা তো এক না।
শায়ান- একই।দেখেন আমি কিভাবে মেইনটেইন করি।আমি সকালে ফেসবুকে পোস্ট করি কিন্তু সকালে আবার আমার পড়ালেখা করার টাইম থাকে।একটা পোস্ট ডিজাইনে সময় লাগে বেশ আমার।তাই পড়া শেষ করে পোস্ট সাজাতে গেলে সব জায়গায় পোস্ট করা সম্ভব হয়ে উঠবেনা।
এইজন্য আমি আগেই পোস্ট সাজিয়ে রাখি।কোন পেজে, আইডিতে বা গ্রুপে কখন কি পোস্ট হবে,সব আমি করে রাখি।ঠিক তার আগে আমি পড়া ও অন্যান্য কাজ শেষ করে নিই।
পোস্ট যখন পাবলিশড হয়,তখন পোস্ট লেখার মত অবস্থায় না থাকলেও আমি রিপ্লাই দেবার মত অবস্থানে থাকি।আর এইজন্যই এভাবে একাগ্রচিত্তে আমি সব জায়গায় সমানভাবে নিজের অবস্থান কে জানাতে পারি।
অদ্রি- এত বুদ্ধি নিয়ে ঘুমান কিভাবে?
শায়ান- এটা বুদ্ধি না।কমনসেন্স।ঠিক যতটুকু থাকলে এটা বোঝা যেতো যে,আপনার বানানো কফি কেন নিলাম না।
অদ্রি- কেন বানিয়ে দিতে দিলেন না?
শায়ান- এটা অফিস।আপনি এখানে আমাকে কফি বানিয়ে দিলে।সবাইকেই দিতে পারেন।একা হলে সেটা কর্মক্ষেত্রে না।
বলেই শায়ান প্রস্থান করলো আর অদ্রি চেয়ে রইলো।আফ ভাবলো- এই ছেলেটাকে দেখে সবাই ভাববে যে এরোগেসি নিয়ে চলে।বাস্তবে সে খুবই ক্যালকুলেটিভ।
চাইলেই এখানে কফির জায়গায়,আপনার চায়ের পেজ কে নিয়ে আসতে পারবেন।
এভাবেও আপনি স্টোরিটেলিং দিয়ে কন্টেন্ট প্রেজেন্ট করতে পারেন সপ্তাহে ১/২ টা পর্ব।