আমি যখন ক্লাস নিতাম,তখন আমার একটা রুলস ছিলো।আমি ল্যাবে কাজ শিখিয়ে সেই কাজের রিপোর্ট ঐ ক্লাসেই শেষ করিয়ে সাইন করে দিতাম।দিনের মার্ক দিনেই ডিভাইড করে ডিস্ট্রিবিউট করে দিতাম।
প্র্যাক্টিক্যাল এক্সামের দিনে পরীক্ষা নিতে হতো ৩০০ এর মত ছাত্র-ছাত্রীদের একসাথে এবং একদিনেই ভাইভা।এটা থেকে কাউকে সঠিক জাজমেন্ট করার সুযোগ থাকে বলে আমি বিশ্বাস করতাম না,এখনো করিনা।
এটাতে অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের রাগ হতো।আমার আড়ালেই এটা নিয়ে কথা বলতো আমার কলিগরা পর্যন্ত।কোন কোন কলিগ আর গার্জিয়ান বলতো- “এত কড়া হলে তো সমস্যা, প্র্যাক্টিক্যাল এত জাজ করার কিছু নেই।এটা মুখ চিনেই মার্ক করে দেয়া যায়।”
এই মুখ চিনে ব্যাপারটা আমার দ্বারা হয়নি।আমি আমার ঐ কর্মক্ষেত্র ছেড়ে এসেছি যে কারনে,তার মধ্যে বড় কারন হলো সেখানে কাজের কোন স্বাধীনতা নেই।ইনফ্যাক্ট অনেক জবেই নেই বাংলাদেশে।
আমি অনলাইনে এসেও একই কাজ করি,কাউকে পড়াই না, আমি শেখাই।আমি লিখি,আমি জানাই।আমি সব সময়ই ফিল করি যে,কাউকে না জানিয়ে,না বুঝিয়ে কাজ করাটা আসলে অন্যায়।
লাস্ট ৭ বছরে শুধুমাত্র এই আইটি, বিজনেস, ক্যারিয়ার নিয়ে ২৫০০০+ কন্টেন্ট লিখেছি।আমি আমার লেখাতে বাদ রাখিনি কোন টপিক।এগুলার কোনটাই এখনো পেইড না।সবকিছুই পাওয়া যায় ফ্রীতে।
এই ফ্রী রিসোর্স থেকে পড়ে,জেনে ও বুঝে আপনি নিজেই নিজের বিজনেস পরিচালনা করতে পারবেন।আর এরপরেও যারা ভাবেন যে,আপনার আরও বেশি জানা প্রয়োজন,তারা পেইড কনসাল্টেন্সি করতে পারেন।
আমি কখনোই আমার নামের পাশে মেন্টর শব্দটা ব্যবহার করিনাই।কারন,আমি শিক্ষক,মেন্টর নাকি অন্য কোনকিছু সেটা জাজ করে অডিয়েন্স।
আমাকে ভাইভা বোর্ডে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, আপনি হবি (Your Hobby) এর জায়গায় এভাবে কেন লিখেছেন?
জবাবে বলেছিলাম,স্যার আমি ক্রিকেট খেলা পছন্দ করি ও ভালোবাসি কিন্তু রোদে দাঁড়িয়ে ফিল্ডিং করতে এখন ইচ্ছে করেনা।কিন্তু প্রয়োজনে সেটাও করি।
আমি বৃষ্টিতে ভেজা পছন্দ করি তবে কোন কাজে যাওয়ার সময় বৃষ্টি পছন্দ করিনা।
লাইফে আমরা আসলে পছন্দ অনেক কিছুই করি আবার ঐ কাজগুলিই ক্ষেত্রবিশেষে পছন্দ করিনা।তাই আমার মনেহয়, হবি বলে কিছু নেই।সবই প্রয়োজনে ভালো লাগে আর নাহয় ঐ প্রয়োজন নেই বলেই ভালো লাগেনা।
নিজের গুন গাইছিনা।আমি আমার জীবনদর্শন বলছি মাত্র।তাই আমার লেখা পড়ে যিনি শিখেন,তিনি আমাকে শিক্ষক ভাবতে পারেন,যিনি আমার সকল গাইডেন্স মেনে চলেন তিনি হয়তো আমাকে তার মেন্টর বলে ভাবেন।
আবার যার কাছে এগুলা মানতে ইচ্ছে করেনা,বা পড়তে ইচ্ছা করেনা,আমি তাদের কাছে কিছুই না।আমি আমার জীবন কে খুব সহজভাবেই দেখেছি এবং দেখি।এখানে আমি জটিল কিছু খুঁজিনা কারন জটিলতা আমার অপছন্দের।
অনেক কেই বলতে শুনি,সৌভিক ভাইকে চোখের সামনে বড় হতে দেখলাম।এখন কথা বলতে গেলে সিডিউল নিতে হয়।এটা এক প্রকার অহংকার। কিছু জানতে চাইলেই বলে দেন যে,এইটা পড়ে নেন,এইটা জেনে নেন।এগুলা আসলে চরম অহংকার।
নাহ! এগুলা আপনাদের অজ্ঞতা।
প্রথমত বলি,আপনারা মানে এই উদ্যোক্তা সার্কেল টা খুব ছোট একটা সার্কেল।আমাকে এই বাবলের বাইরে কেউ চিনে না হয়তো। তাই এই সামান্য পরিচিতি আর ফেইম কারো বড় বা ছোট হবার নির্ধারক নয়।
দ্বিতীয়ত,আপনারা যারা বলেন যে,আপনাদের অজ্ঞতার জন্য আমার মত অনেকেই ইনকাম করে চলেছে।তারা হলেন বোকার স্বর্গে বসবাস করা পাবলিক।
কারন,আপনার অজ্ঞতার দ্বায় আপনার।আপনার অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যারা ইনকাম করে,তারা বড় হতে পারেনা।কারন,কাউকে ঠকিয়ে কেউ বড় হতে পারেনা।
কথা বলতে গেলে সিডিউল নিতে হয় আর টাকা দিতে হয় বলে যারা ভাবেন অহংকার, তারা হইলেন জন্মগত গাধা-গাধি।কেউ কারো স্কিল ফ্রীতে সেল করেনা।
সবার কাজের স্ট্যামিনা একই থাকেনা আজীবন।তার দিন থাকাকালীন তাকে আর্ন করতে হয় পরিবারের জন্য আর নিজের জন্য।আপনিও আপনার টাইমের মুল্য দেন আর সেই জন্যই আপনি প্রশ্ন করে খুব দ্রুত উত্তর আশা করেন।
আপনার আর আমার মধ্যে পার্থক্যটা হলো- আপনি ভাবেন, আপনিই রাইট আর আপনার সময়ের মুল্য দিলেও আপনি অন্যের সময়ের মুল্যায়ন করতে পারেন না।
আর আমি ভাবিনা,আমি দেখাই প্রমাণ করে যে,কোন বিষয় সঠিক আর আমি আমার ও আপনার উভয়ের ব্যাস্ততা ও সময়কে মুল্যায়ন করি।
আর কিছু বিজ্ঞদের বলছি,আমি বড় কেউ নই।আমি নই কারো মেন্টর বা শিক্ষক।আমি নিজেকে একজন বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কোচ হিসাবেও পরিচয় দিইনা।
আমি বিজনেস কোচ,যার কাজ ব্যবসাতে থাকা ভুল খুঁজে বের করা ও তা শুধরে দেওয়া।
এই ভুল ধরার শুরু ক্লাস ফাইভ থেকে।নিজের বাবার বিজনেস দিয়েই।আমার দ্বারা কারো উপকার হলে আমি খুশি হই আর মনের অজান্তেই যদি আমি কারো ক্ষতির কারন হই,তাহলেও আমি প্রতি নামাজে ক্ষমা চেয়ে নিই আমার রবের নিকট।
তবে ভাই-বোনেরা,আমি স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড কথা বলি।আপনি মানতে না পারলে আপনার সমস্যা।আপনি আমাকে এড়িয়ে যান।যদি আমার দ্বারা আপনার উপকার না হয়,আপনি সাইডে চলে যান কারন অপশন অনেক আছে আপনাদের কাছে।
আমি নিজের লাইফে,যে জিনিসটাকে আমার মানসিক শান্তি নষ্টের কারন ভাবি,সেটাকে স্কিপ করে যাই।এরপরেও সেটা চলতে থাকলে আমি লাইফ থেকে ছেঁটে ফেলি।
যারা কষ্ট করে পড়েছেন,তাদেরকে কিছু ম্যাসেজ শেখালাম বা শেখাতে চেষ্টা করলাম।
জীবনে যা কিছু বিরক্তির কারন হবে,সেগুলিকে স্কিপ করে ফেলুন।
আপনি যেটাকে বলছেন যে,আপনার অজ্ঞতায় কেউ ইনকাম করে,সেটা আপনার সবচেয়ে বড় অজ্ঞতা।
আপনি যেটাকে বড় হওয়া বলছেন,সেটা কারো কাছে তার শুরু মাত্র।সে আপনার যেখানে শেষ,সেখান থেকে শুরু করেছে যা আপনি তাকে চেনার আগে থেকেই।
সবশেষ একটা নোট দিচ্ছি,যদি একটা মানুষ ও সৌভিক কে এই সাত বছরে,সৌভিক ভাই / সৌভিক স্যার হিসাবে সম্মান করে মন থেকে সেটা তার এই স্ট্রিক্টনেসের জন্য আর তার কারো দয়া-দাক্ষিন্য বা পা চেটে না চলার জন্যই।
আপনারা আমাকে বিভিন্ন গ্রুপ থেকেই চিনেন কিন্তু এটা নিশ্চয়ই জানেন যে,আমি কখনোই কোনদিন কোন গ্রুপ এডমিনের দৌলতে কিছু করিনাই।আমি যা করেছি সেটা পিউর আমার যোগ্যতায়।
আপনি আমাকে যেভাবে দেখেন,সেটা আপনার লেভেল অফ এজুকেশন।আমার দেখার ইস্যু না।
মনে রাখবেন,আপনার অজ্ঞতায় আপনাকে ঠকাচ্ছে আর আপনি অন্য কারো উপরে দ্বায় দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন।এটাও আপনার অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।