এদেশে সবচেয়ে রিক্সি কাজ হলো- কাউকে নিয়ে কোন বিষয়ে কথা বলা ও পোস্ট দেয়া

এখন একটা জিনিস একটা এংগেলে বলবেন,একটা কিছু ভাইরাল হতে দেখে,সেটা ১ ঘন্টা পরে দেখবেন যে, অন্য এংগেলে অন্য কথা বের হয়ে গেছে।
আমাদের দেশের মুল সমস্যা হলাম- আমরা জনগণ।তাই এখানে সরকারের কোন দোষ নেই।চেয়ারের কোন দোষ নেই।
সব দ্বায় আমাদের,সব দোষ আমাদের।
এই এখন হিরো,একটু পরেই জিরো।কারন কি জানেন?
আমাদের শিক্ষার অভাব,আমাদের জ্ঞানের অভাব।
কে কাকে নিয়ে কথা বলতে পারে,কি বলতে পারে সেই সাম্যক জ্ঞানটাই আমাদের নেই।সবার ধান্দা হলো-ঢোল পিটিয়ে নিজেকে জাহির করা।একমাত্র দেশ হিসাবেই আমাদের স্বীকৃতি দেয় উচিত যে,সবাই সব বিষয়ে জ্ঞান রাখে,সবাই জ্ঞানী।
যার যেটা নিয়ে কথা বলার অধিকার আছে সে যতটা বলে,তারচেয়ে অনেক বেশি বলে সে,যার আসলে কোন যোগ্যতা বা অধিকার নেই।
এইজন্যই সত্যিকারের জ্ঞানীরা বলেন- কথা বলতে পারাটা যতটা বড় সৌন্দর্য তারচেয়ে বেশি সুন্দর হলো- কার কোথায় কিভাবে কি বলা উচিত সেটা জানা।
এইজন্যই আমি আসলে সমসাময়িক সব ইস্যুতে কথা বলিনা।আসলে আমি সব বিষয়ে নিজেকে দক্ষ ও জ্ঞানী বলে ভাবিনা,তাই বলিনা।
এতে আপনি আমাকে যে ট্যাগ দিবেন দেন।আপনার দেয়া ট্যাগে আমার কিছুই এসে যায়না।
একটা দেশের মিডিয়া কতটা স্কিলফুল সেটা জাস্ট এই রিসেন্ট কিছু নিউজ দেখলেই বুঝবেন।
বাবাকে পানির বোতল এগিয়ে দেয়া নিউজ,কারো ঘরে একটা পোশা প্রাণী থাকা নিউজ।একটা স্বাক্ষাতকারের একটু একটু করে কেটে,রসালো করে থাম্বনেইল বানিয়ে দেয়া নিউজ।
কেউ জান্নাত দিয়ে দিচ্ছে,কেউ কবরে কি বলবো তার হিসাব দিয়ে দিচ্ছে,কেউ ভুমিকম্পের কারন বলে দিচ্ছে, কেউ আবার গ্যাসের দাম বাড়ার কারন দিচ্ছে,কেউ তো পদ্মা সেতুর কারনে চাউলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এইগুলা নিয়ে এখন যারা মজা নিচ্ছে,তারা আবার কয়দিন আগে- বেগুনের জায়গায় মিষ্টিকুমড়া খেতে বলতো।পেঁয়াজ ছাড়া রান্না শেখাতো,তেল ছাড়া রান্না কিংবা ডিম সেদ্ধ করে একমাস খাবার প্রসেস শেখাতো।
ভাই রে ভাই,এগুলা লিটারেলি এই দেশেই সম্ভব।কেন জানেন তো?
এগুলা যে ওনারা করেন,সেটার দ্বায় ওনাদের না কিন্তু, এই দ্বায় টাও আমাদের।কারন হলো- আমরা এগুলাই খাই।
কার বউ চলে গেলো, কে কার সাথে বাইকে ঘুরে বেড়ায় কিংবা হাত ধরে রিক্সায় চলে, কে কি খাচ্ছে, ওমুক কত ভিউ পেলো,এগুলা দেখার মত একমাত্র অথর্ব জাতি আমরা।
আমাদের দেশটা তো সরকার একা এগিয়ে দিবেনা।আর মজার ব্যাপার হলো- এই দেশেরই কেউ না কেউই তো ঐ চেয়ারে বসেন।
আমাদের আর উন্নতি কিভাবে হবে?
আমাদের তো গোটা শরীর জুড়েই কুশিক্ষার কালো দাগ দিয়ে ভরে রাখা আছে।
যতটুকু পারা যাই,নিজে ও নিজের পরিবারকে এসবে আগ্রহী করে না তুলতে পারাটাই বড় স্বার্থকতা এখন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *