একটা গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে মানুষ প্রতিদিন ৭০,০০০ চিন্তা-ভাবনা করে। কিন্তু এগুলো মানব মস্তিষ্কে অগোছালো অবস্থায় থাকে। যদি এই চিন্তাগুলো সংগঠিত করে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যায় তাহলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে।
কিন্তু খুব কম মানুষই আছে যারা তাদের চিন্তার সাথে কাজের সমন্বয় করতে পারে। প্রতিদিনের ভাবনাগুলোর সাথে কাজের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রোডাক্টিভিটি কমতে থাকে।
তাই নিজের চিন্তার সাথে বাস্তব জীবনে কাজের সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে আপনাকে কিছু কৌশল জানতে হবে।
প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর সেরা ৫টি উপায় নিয়েই আমাদের এ আলোচনা-
১. দিনের শুরুতে সারাদিনের কাজের প্ল্যান ঠিক করা-
– ঘুম থেকে উঠে প্রথমে নিজের প্রতি ফোকাস করতে হবে।
– ফ্রেশ হয়ে সুন্দর একটা ব্রেকফাস্ট সেরে তারপর কাজের প্রতি মনযোগী হতে হবে।
তবে সবার আগে প্ল্যান ঠিক করতে হবে, মানে সারাদিন আপনি কতটুকু কাজ করতে চান।এরপর সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হবে।
কাজের জন্য বাড়তি প্রেসার নেয়া যাবে না। চাপ নিলে আপনার কাজের প্রোডাক্টিভিটি কমবে ছাড়া বাড়বে না। তাই যতটা পারা যায় আনন্দের সাথে কাজ করতে হবে।
দিনের শুরুতেই যদি আপনি কাজ ঠিক করে নেন, এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন তাহলে মস্তিষ্কে ভাবনাগুলো অগোছালো থাকবে না।
প্রতিদিনের চিন্তাগুলো উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে।
আবেগ আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দিতে পারে। তাই কাজের ক্ষেত্রে যেকোনো উপায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন।
কাজের ক্ষেত্রে যত বেশি বাস্তববাদী হবেন, তত বেশি উৎপাদনশীলতা বাড়বেযেকোনো বিষয় নিজের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা-ভাবনা দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে।
কাজের ক্ষেত্রে একটি সঠিক এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত আপনার উৎপাদনশীলতা বাড়াবে বহুগুনে।
৩. কাজের সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন- কাজের সময় অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন, যদি তা আপনার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়।
কাজ করার সময় নোটিফিকেশন আপনার মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।একবার নোটিফিকেশন চেক করতে ফেসবুকে ঢুকলে আপনার কাজের নির্ধারিত সময় থেকে কয়েক ঘণ্টা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আপনি নিজেও টের পাবেন না সময় কিভাবে চলে যাচ্ছে। তাই কাজের সময় সম্ভব হলে সোশ্যাল মিডিয়া, ফোন এগুলো থেকে দূরে থাকুন।
৪. মাল্টিটাস্কিং থেকে নিজেকে যতদূর সম্ভব বিরত রাখুন-
অনেকেই আছে একসাথে অনেকগুলো কাজ শুরু করে তালগোল বাঁধিয়ে ফেলেন।পরে দেখা যায়,কোন কাজই ঠিকঠাক মত করা হয়নি।
মাল্টিটাস্কিং আপনার প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দেয়। তাই কাজের চাপ নিয়ে একসাথে বিভিন্ন ধরনের কাজ শুরু করবেন না। বরং একটি কাজ শেষ করে নতুন কাজ শুরু করেন।
৫. কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন- আপনি যদি ভাবেন একটানা কাজ করে অনেক বেশি কাজ করবেন, তাহলে ভুল করছেন।
ক্লান্তি শরীরে কাজ করলে সেই কাজের ভালো ফলাফল আসে না। তাই কাজের ভালো ফলাফলের জন্য কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন।এটা মোটেই সময়ের অপচয় নয়। কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিলে কাজে গতি আসবে, আপনার কাজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে।
তাই একটানা কাজ না করে বরং সময় অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নিতে পারেন।সেই অনুযায়ী কাজ করেন। এতে মানসিক চাপ কমবে।নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কাজের ফাঁকে নিজেকে সময় দিলে কাজের মান যেমন ভালো হয়, তেমনি নিজের প্রোডাক্টিটিভিটি বাড়ে।