অনলাইন বিজনেস হোক আর অফলাইন বিজনেস হোক, যেকোন ব্যবসার ক্ষেত্রেই এই ব্যাপারগুলি প্রযোজ্য।আসলে এই সমস্যাটা আমাদের দেশের একটা দেশীয় ট্রেন্ড।
একটা গল্প বলি- এইতো মাস দুয়েকের মত হচ্ছে আমার একটা নতুন বিজনেস শুরু করেছি Stylish Trend, যেখানে আপনি পাবেন সকল প্রকার স্টাইলিশ জুতা।জুতাগুলি আবার সবই চায়না থেকে আনা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির।
যেহেতু আমার নিজের ফ্রেন্ড সাইকেল টা অনেক বড়।এছাড়া আমি আমার আত্নীয় স্বজন থেকে শুরু করে ছেলের বন্ধু-বান্ধবের বাবা পর্যন্ত টোটাল সাইকেল টা অনেক বড়।
আবার এতদিন অনলাইনে বিজনেস করার সুবাধে,আপনারা অনেকেই আমাদের ICT CARE এর খুব কাছের মানুষ।সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটা ৩০০০ এর নিচে না।
এখন যেহেতু সবাই আমার কাছের লোক হিসাব করলেও সংখ্যাটা ৩০০০ তাই সেই হিসাবে ব্যবসা শুরু করলে ঐ ৩০০০ মানুষকে আমার একজোড়া করে জুতা গিফট করা উচিত।নইলে ব্যাপার টা কেমন দেখা যায়।
বন্ধুর কথা,তোর ব্যবসা আমিতো একটা গিফট পেতেই পারি।আর এক বন্ধুর ও একই কথা।ক্লায়েন্টের কথা,ভাইয়ার ব্যবসা আমিতো কম পাবোই, দুইটা নিলে একটা ফ্রী ও আমার পাওয়া উচিত।
আসলেই তো, সবাই সঠিক শুধুমাত্র ব্যবসা যিনি করছেন তিনি ছাড়া সবাই সঠিক।
এই ভাবনাটাই আমাদের অনেক উদ্যোক্তাকে পিছিয়ে দিচ্ছে।ওমুক কে কিছু না দিলে,ওমুক কে গিফট না করলে কেমন দেখায়,এটা হিসাব করতে যেয়েই অনেকের পুঁজি নাই হয়ে যায়।
দেখেন গিফট করলে – আব্বু, ছেলে, ছেলের মামাতো ভাই, ছেলের বন্ধুর বাবা, আমার বন্ধু,আমার অফিসের কলিগ, আমার খুব কাছের মানুষগুলিকেতো দিতে হবে।
এমন অনেক কেই গিফট করতে হবে।কাকে রেখে কাকে গিফট করবো?
আমি জুতার বিজনেস করতে এসেছি লাভ করতে,অনুদান দিতে না।
একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে গেলে অন্য দেশগুলিতে সবার আগে এগিয়ে আসে,তাদের সার্কেল।অন্তত প্রথম সবকিছুই ঐ সার্কেল কিনে ফেলে।এবং সুন্দর সুন্দর রিভিউ করে।আর আমাদের দেশে হয় ঠিক উলটা কালচার।
আমরা সব গিফট হিসাবে চায়।এই গিফট না দিলেই শুরু হয়- ওমুক বড় ব্যবসাদার হয়ে গেছে।খুব বেশি কর্পোরেট হয়ে গেছে।
এইজন্যই বলি আমি,ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা হলো- আপনার সার্কেল।একজন উদ্যোক্তা বলেন আর একজন ব্যবসায়ী,আপনাকে সবার আগে যেটা শিখতে হবে, যে বাঁধাটা অতিক্রম করতে হবে,সেটা হলো-
“বিজনেস টা মাথা দিয়ে করতে হয়,ব্রেইনকে কাজে লাগিয়ে।বিজনেসে হৃদয়ের আহব্বান শুনে লাভ নাই।দিনশেষে আপনার পকেটে টাকা না থাকলে, গিফট দেয়া তো দুরের কথা,আপনাকে হাত পেতে চাইতে হবে।”