অনেকেই ভাবে আমি হয়তো প্রশ্ন করলে রেগে যাই বা আমাকে অনেক প্রশ্ন করা যাবেনা টাইপের কিছু তবে আমার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে শুনলে বেশ ভালো উত্তর পাওয়া যাবে।
আমি ক্লাসে ঢোকার আগে ওদেরকে বলে রাখতাম যে, প্রশ্ন লিখে আনতে।কারন হলো,যার জানার আগ্রহটা থাকে,সে আসলে এগিয়ে যায়।
গতকাল আমাদের পেজের Whatsapp নাম্বারে দারুন কিছু প্রশ্ন রেখেছেন একজন উদ্যোক্তা আপু।আমাকে যখন অফিস থেকে প্রশ্নগুলি পাঠালো,তখন আমি বেশ চমকে গেলাম।
এভাবে গুছিয়ে প্রশ্ন খুব কম মানুষ করে থাকে,তাই বেশ হকচকিয়ে গেলাম আবার খুশিও লাগলো।আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে আমি যখন উদ্যোক্তাদের জন্য ১ম বার অনলাইন ক্লাস নিতে শুরু করলাম,তখন থেকেই আমি প্রোডাক্ট প্রাইসিং নিয়ে বেশ ভালো করে ধারনা দিতে চেষ্টা করেছি।
আজ সকালে একটা ভিডিও পেলাম যেটাতে দেখলাম, ছেলেটা বেশ সুন্দর করে প্রোডাক্টের প্রাইসিং করার সময়ের সব হিডেন কস্ট নিয়ে আলোচনা করছে।
সেখানে অনেকে কমেন্ট করেছে- এই প্রথম তারা এমন কিছু জানতে পারছে।অথচ এই হিডেন কস্ট সহ এমন অনেক ইস্যু সহ কত ক্লাস যে নিলাম সেগুলি আমার ক্লাস করা পাবলিক আর পাঠকেরা জানেন বটে।
যেটা উপরের দুই ঘটনা থেকে যা বুঝলাম,এখন আসলে ব্যবসা করা সহজ হয়ে গেছে।অনেকে বলেন যে কঠিন হয়েছে কিন্তু বাস্তবতা হলো- এখন আরও সহজ কেননা এখন রিসোর্স খুঁজে পাওয়া সহজ।
যার জানার আগ্রহ আছে,যার শেখার আগ্রহ আছে সে সবার আগে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।২০১৪ থেকে এই ই-কমার্স নিয়ে লিখতে বসলে কোন তথ্যকে বাংলাদেশে ইম্পলিমেন্ট করে উদাহরণ দেয়া কঠিন ছিলো আর এখন সবকিছু কত সহজ।
তবে এই সহজটা আসলেই সহজ হিসাবে পেতে হলে আপনাকে সবার আগে বাবল চেঞ্জ করতে হবে।নইজের আইডেন্টিটি বানাতে গেলে একটা সুন্দর নেটওয়ার্ক আর দারুন কিছু বাবলে নিজেকে রাখতে হয়।
দেশের কোন জিনিস ভাইরাল হলো,লে কার সাথে প্রেম করছে বা বিচ্ছেদ করছে,কার সংসারে শ্বাশুড়ি ভালো না আর কার ব্যাডা খারাপ সেসব আলোচনার বাইরে যেয়ে,রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে লেখালিখি বাদ দিয়ে নিজে একটু স্কিলড হয়ে নিন আর ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করার জন্য কিংবা নিজের বাবা-মায়ের একটু দ্বায়িত্ব নেবার জন্য হলেও নিজে কিছু চেষ্টা করুন।
বাচ্চা সামলে বাসার বাইরে যেয়ে কাজ করা হয়তো অনেক কঠিন তবে ঘরে বসেও অনেক সুন্দর করে কাজ করা যাবে যদি আপনার ঐ ইচ্ছাটা থাকে।
ওহ হ্যাঁ, সেই আপুর প্রশ্নগুলির মধ্যে কিছুটা আমি তুলে ধরি-
আস সালামু আলাইকুম।
আমি সৌভিক ভাইয়ার লেখা পড়ি ৩ বছর যাবত।আমি ওনার সব লেখা পড়ি,এটাই আমার রুটিন।আমি ওনার লেখা পড়েই নিজে কিছু করার সাহস করেছি।আমার নাম নিলিমা (ছদ্ম নাম)।
আমি ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা জমিয়েছি বা ম্যানেজ করেছি বলা চলে।এই টাকা দিয়ে আমি,
– কিভাবে শুরু করবো।
– আমার কোন জায়গায় কত টাকা লাগবে।
– এখন ওয়েবসাইট বা ল্যান্ডিং পেজ লাগবে কিনা।
– প্রোডাক্ট কত টাকার স্টক করবো।
– মার্কেটিং কত টাকার হবে।
আমার টোটাল বিজনেস স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আমি ভাইয়ার সাথে আলোচনা করতে চাই।কিভাবে ভাইয়ার সিডিউল নিব জানাবেন দয়া করে।
আমার অনলাইন হোক বা অফলাইন সিডিউল সবগুলি সিডিউলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশ চাপাচাপি আছে।তবুও আমি এমন কেসের জন্য ২ দিনের মধ্যে সিডিউল দিব জানিয়েছি অফিস কে।
যারা সত্যিই কাজ করতে চান,আমি যা লিখি সেগুলি ফলো করলে আপনকে কেউ ঠকাতে পারবেনা ১০০% নিশ্চিত থাকেন।
নিজের পরিবার নিয়ে ভালো থাকুন,বাইরের সব ইস্যুতে কথা বলা ও সেসব জায়গায় কমেন্ট করা বাদ দিন, শেয়ার করাও বাদ দিন।
শারলিন জামান আপুর প্রোফাইলে গেলে আমি দেখি তিনি শেখার একটা বাবলে আছেন।
জীবন ছোট,তবে এতটাও ছোট না যে কিছু শেখার বা নিজে করার মত সময় পাবেন না।