ভাবানন্দ ভেবেই চলে, কর্মনন্দ রিক্স নিয়ে কাজে নেমে পড়ে

ভাবানন্দ ভেবেই চলে, কর্মনন্দ রিক্স নিয়ে কাজে নেমে পড়ে 💢
একটা গ্রামে কর্মনন্দ আর ভাবানন্দ নামে দুই যুবক বাস করত।তারা দুজনেই বেকার। দিনমজুরের কাজ ছাড়া গ্রামে আর কোনো কাজই তারা দেখছে না।
এইদিকে নব বিবাহিতা স্ত্রী নিয়ে দুজনের একই রকম পারিবারিক অবস্থা । ভিন্ন মানসিকতার হলেও দুজনের একটাই সাধারণ সমস্যা,আর সেটা হলো কী করে টাকা রোজগার করা যায় ।
এই সব ভাবতে ভাবতে ভাবানন্দ এর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল । সে কর্মনন্দকে বলল দুজনে মিলে যদি একটা করে গাভী কেনা যায় , তাহলে কেমন হবে।
গাভীর দুধ বিক্রি ক’রে কিছু টাকা পাওয়া যাবে । আর গাভীর বাচ্চাও হবে , ফলে গাভীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে । দুধও বেশি বেশি হবে ।
আর এভাবে দুজনই একদিন অনেক টাকার মালিক হয়ে যাব । গাভীর সংখ্যা যখন বাড়বে , তখন অনেক লোক রাখবে দেখাশুনার জন্য ফলে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও হবে —-এভাবে দুজনই একদিন ধনী হয়ে উঠবে ।
এভাবে ভাবানন্দ তার ভাবনার কথা কর্মনন্দকে জানায় । এই প্রস্তাবটি কর্মনন্দেরও খুব ভালো লাগে । সেও প্রস্তাবে রাজী হয়ে যায় । তারা দুজনে কথা পাক্কা করে ফেলে।
খুব আনন্দ আর উদ্দীপনা নিয়ে দুজনেই বাড়ি যায় । দুজনেই তাদের এই উদ্যোগের কথা তাদের নিজেদের স্ত্রীকে জানায় ।
কর্মনন্দের স্ত্রী সব শুনে খুব আনন্দের সঙ্গে তার গয়না খুলে স্বামীর হাতে দিয়ে বলল ” খুব ভালো পরিকল্পনা , আমার গয়না বিক্রি করে গাভী কেনো । যখন বেশি বেশি রোজগার হবে , গয়না কিনতে আর কতক্ষন । ” স্ত্রীর কথায় গর্বিত হয় কর্মনন্দ ।
ঐদিকে ভাবানন্তাদের পরিকল্পনার কথা স্ত্রীকে জানালে তার স্ত্রী বলে , ” দেখো একে তো আমাদের কিছুই নেই । খালি কয়েকটা মাত্র গয়না সম্বল । আর তা বিক্রি করে গাভী কিনবে । কিন্তু যদি গাভীটি মরে যায় তখন কি হবে ”।
ভাবানন্দের মনেও খটকা লাগে । মনে হয় তার স্ত্রী ঠিকই বলছে । কারণ গাভী যদি মরে যায় , একমাত্র সম্বল গয়নাগাটিও যাবে — গাভী ও যাবে । এত ঝুঁকি নেওয়াটা উচিৎ হবে না ।
পরের দিন দুই বন্ধুর দেখা হলে ভাবানন্দ বলে ” ভাই কর্মনন্দ , গাভী যদি মরে তাহলে…. ? “
কর্মনন্দ তখন বলল , ” এত নেগেটিভ চিন্তা করছিস কেন ? কেনার আগেই গাভীর মরার কথা ভাবছিস ? আর গাভী কোন কারণেই বা মরতে যাবে ? ”
ভাবানন্দ একই সুরে হতাশ জবাব দেয় , ” তা তো বুঝলাম যে গাভী মরবে না । কিন্তু ধর , যদি মরে ? তাহলে কী হবে ? “
কর্মনন্দ অত্যন্ত স্নেহ ভ’রে জবাব দেয় , “তোর ‘তাহলে’র জবাব আমার কাছে নেই । ”
ভাবানন্দ বলে ” এই তাহলে’র জবাব আমার কাছে আছে । আমরা বরবাদ হয়ে যাবো । সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবো । “
কর্মনন্দ বলে- দেখ আমাদের ভাবা উচিত অবশ্যই কিন্তু এখানে আমাদের জেতার ও সুযোগ আছে,আর সেটা নিতে না পারলে তো জেতার কোন সুযোগ সৃষ্টিই হবেনা।
অত্যন্ত বেদনাহত হয়ে কর্মনন্দ , ” কিন্তু তুই কেন বার বার ভাবছিস যে গাভীটা মরে যাবে …..একটু অন্যভাবে ভেবে দেখ , গাভীটা দুধ দেবে । আমরা বিক্রি করবো । প্রথমে পয়সাগুলো জমাবো । তারপর আরও গাভী কিনবো । অনেক পয়সা হবে যখন , তখন অনেক গয়না কেনা যাবে , বাড়িও বানানো যাবে । এভাবে দুধের বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠব দুজন । ”
কিন্তু ভাবানন্দের ওই এক বুলি এক জিকির ” ব্যবসা টাকা বাড়ি গয়না সব হবে তখনই , যখন গাভীটা বেঁচে থাকবে । ”
এরপর অনেক বোঝানোর পরেও ভাবানন্দ তোতাপাখির মতো বলতে থাকে গাভী মরার কথা ।
কর্মনন্দ বোঝাতে পারে না শুধু বলে , ” দেখ ভাবানন্দ , ঐরকম ভাবলে তুই কোনোদিনও কোনো কাজ করতে পারবি না । এই ধরণের ভাবনা ঠিক নয় । কারণ তুই আগে অন্ধকার দিকটাই দেখছিস । ” এইভাবে দুই বন্ধুর তর্কের পর কয়েকদিন গেল ।
অনেক কষ্টের পরে-
কর্মনন্দ একাই একটা দুগ্ধবতী গাভী কিনে ফেলে । সে এখন আর দিন মজুরের কাজে যায় না । সকাল থেকে সন্ধ্যা গাভীর দেখাশুনা করে , দুধ দোয় । প্রথম কিছুদিন দুধের গ্রাহক খুঁজতে , গাভীর পরিচর্যা করতে কষ্ট হয়েছিল । ধীরে ধীরে কর্মনন্দ এই কাজগুলোতে দক্ষ হয়ে উঠতে লাগলো।
আর দিনমজুরের কাজের শেষে ভাবানন্দ রোজ তার কাছে আসতো , আর কর্মনন্দের সংঘর্ষ করার , পরিশ্রমের বিষয়টি দেখতো । আর ভাবতো তাদের দিনমজুরের জীবন কত ভালো ছিল ।
রোজ সকালে কাজে যেত আর বিকেলে ফিরে এসে সন্ধ্যায় কাজ কর্মহীন আড্ডা দিতে পারত । এখন পিন্টুর জীবনে আড্ডা দেবার অবসর নেই । তার উপর এত ঝুঁকি নিয়ে কেন যে গাভী কিনলো । যদি মরেই যায় । সবই যাবে তার ।
আর ঐ দিকে কালো গাভীর মধ্যেই জীবনের আলো দেখতে পায় কর্মনন্দ। সে দ্বিগুন উৎসাহে কাজ করতে লাগলো । এটা ঠিক যে তার কাছে এখন অবসর নেই । কিন্তু সুন্দর ভবিষ্যতের কল্পনায় সময় নষ্ট করতে সে রাজি নয় ।
এইভাবে দিন যায় । আস্তে আস্তে তার গ্রাহক বাড়তে থাকে । গাভী বাড়তে থাকে । কাজের লোকও বাড়তে থাকে । গাভী ও তার মরে নি ।অন্যদিকে ভাবানন্দ গাভী মরার কথা ভাবে আর একইভাবে দিনমজুরের কাজ করে যায় । এদিকে কর্মনন্দ ধীরে ধনী হতে থাকে ক্রমশঃ
এই গল্পের ভেতরের বিষয়টিকে যদি আমরা বুঝতে পারি , তাহলে আমাদের জীবনে পদক্ষেপ নেবার শিক্ষাটি অর্জন করতে পারবো ।
ভাবানন্দ কারা আর কর্মনন্দ কারা সেটা জানান কমেন্টে।
যা শিখলাম এই গল্প থেকে-
১. কিন্তু,যদি,তবে ইত্যাদির জালে আটকে পড়তে নেই।
২. নেতিবাচক ভাবনা কখনোই মাথায় আনতে নেই ।
৩. নো রিস্ক নো গেইন । ঝুঁকি নিতে পারলেই জীবনে সাফল্য আসবে ।

Newsletter Updates

Enter your email address below and subscribe to our newsletter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *